নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর দক্ষিণপাড়ায় জমি ও বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী শাকিল খানের মাথা ও কপালে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় মোছাঃ মৌসুমী খাতুন (৩২) বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর সাতজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে জমি দখলের চেষ্টা, বসতবাড়ির প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়া, মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৌসুমী খাতুনের দাবি, তাঁর বাবা তাঁর পালিত ভাইয়ের কাছ থেকে সোয়া দুই শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তবে তাঁদের না জানিয়ে গোপনে ওই জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে তাঁর বাবার পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ চলছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বসতবাড়ির সীমানা স্থানীয় ব্যক্তি ও উভয় পক্ষের আমিনের মাধ্যমে নির্ধারণ করে খুঁটি পুঁতে দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেই মাপ মানতে রাজি হননি। একপর্যায়ে বসতবাড়ির গেট ও তাঁর কেনা জমির ওপর বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর মাকেও আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ

মৌসুমী খাতুনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি তাঁর স্বামী, দেবর, শ্বশুর ও স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি শ্রীরামপুরে যান। সেখানে জমির ওপর বাঁশের বেড়া দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় এক নম্বর অভিযুক্তের নির্দেশে অন্য অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, হাসুয়া, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। দুই নম্বর অভিযুক্তের লাঠির আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তাঁর বাম হাতে ফুলে যাওয়া জখম হয় বলে দাবি করেন মৌসুমী।

এ ছাড়া দুই, তিন ও ছয় নম্বর অভিযুক্ত তাঁর চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৌসুমীর স্বামী শাকিল খান এগিয়ে এলে তাঁকেও লোহার রড, কাঠের বাটাম ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর মাথায় বাঁশের আঘাত লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। বর্তমানে তাঁর মাথা ও কপালে মোট পাঁচটি সেলাই রয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। তাঁদের দেবরকেও মারধর করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে।

শ্বশুরের ওপরও হামলার অভিযোগ

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আহত শাকিল খানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মৌসুমীর ছেলে তাঁর বাবার বাড়িতে একা ছিল। পরে শিশুটিকে আনতে গেলে তাঁর শ্বশুরের ওপর দুই ও ছয় নম্বর অভিযুক্ত বাঁশ ও ঝাড়ু দিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্তরা মৌসুমী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাক্ষী হিসেবে স্থানীয়দের নাম

মৌসুমী খাতুনের অভিযোগে শ্রীরামপুর দক্ষিণপাড়ার বিজলী খাতুন ও মোজাম্মেল হক বাটুলসহ স্থানীয় কয়েকজনকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

জমি কেনাবেচা, সীমানা নির্ধারণ এবং পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগটি একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এনেছে। জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেজিস্ট্রির তথ্য কী, সীমানা নির্ধারণের সময় কারা উপস্থিত ছিলেন, হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং আহতদের চিকিৎসার নথিতে কী তথ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বড়াইগ্রাম থানা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় নাটোর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের কাছে নিশ্চিত তথ্য এসেছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।